Auto Image Slider

মাহরাম ও গায়রে মাহরাম কাকে বলে

যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ আছে বা পর্দা করতে হবে না তাদেরকে মাহরাম বলে। যেমন: বাপ, দাদা, নানা, আপন চাচা, আপন মামা, আপন ভাই, দুধভাই, দুধ বাপ, এদের সাথে দেখা করা যাবে। আপন ছেলে, ছেলের পুত্র নিম্নে যত যাবে, কন্যার পুত্র নিম্নে যত যাবে, সৎপুত্র নিম্নে যত যাবে, সৎভাই নিম্নে যত যাবে, শশুর, আপন কন্যার স্বামী, দুধ কন্যার স্বামী, এদের সাথে দেখা করা জায়েজ আছে। (অর্থাত বিবাহ হারাম) কিন্তু এদেরকেও নাভি হতে হাটু পর্যন্ত দেখানো হারাম এবং পেট পিট দেখানো হারাম।

সাবধান

সর্বদা আপনার পেট ও পিঠ ঠেকে রাখবেন যেন কোন মাহরাম পুরুষ দেখতে না পায়। আর স্মরণ রাখবেন কোন মেয়ে লোকের অন্য মেয়ে লোকের নাভি হতে হাটু পর্যন্ত বিনা ওজরে দেখা হারাম। এখন বুঝলেন তো জায়েজ পুরুষদের জন্য যখন শরীরের অঙ্গ পর্দা করা ফরজ,  তাহলে অপরিচিত বা যাদের সাথে পর্দা করতে হবে তাদের সাথে দেখা করা আরো কত বড় হারাম। আশা করি সহজেই বুঝতে পেরেছেন।

মাহরাম বলা হয় যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ আছে পর্দা করতে হবে না। (অর্থাৎ যাদের সাথে বিবাহ করা হারাম) তাদেরকে মাহরাম বলে। আর যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ নেই অর্থাৎ (বিবাহ জায়েজ) তাদেরকে গায়রে মাহরাম বলে

আল্লাহ তা’আলার রহমতের আশায়, শত কষ্ট হলেও ক্ষণকালের জন্য এই দুনিয়া হতে বেহেশতে যাওয়ার ছবক আদায় করে যান। এই জগতের সুখ শান্তি তালাশ করা জ্ঞানী লোকের কাজ নয়। জায়েজ পুরুষদের সাথে হলেও নির্জন স্থানে বসে আলোচনা করবেন না, কারণ সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি শয়তান এসে ধোঁকা দিতে পারে। তাই ছোট বাচ্চা বা কাউকে ধরে রেখে আলোচনা করবেন।

বোনেরা আমার, কষ্ট করে আজ খাসপর্দা করে চলেন কাল কবরে গিয়ে সুখে থাকতে পারবেন। এ দুনিয়া হল আখিরাতের শস্যক্ষেত্র ও কামাই করার জায়গা । এখানে যে যা উপার্জন করবেন আখেরাতে তাই ভোগ করবেন। একবার বেহেশতে যেতে পারলে এই কষ্টের কথা চিরতরে ভুলে যাবেন।

স্বামীর কারণে যদি কোনো মহিলার পর্দা নষ্ট হয়, যেমন স্বামী ভিন্ন পুরুষদেরকে নিজ ঘরে প্রবেশ করতে নিষেধ করে না, স্বামীর ভাই এসে ভাবি বলে ঘরে ঢুকে যায়, স্বামীর ভাগ্নে এসে মামি জান চাচি জান বলে ঘরে ঢুকে পরে। স্বামীকে বুঝিয়ে আল্লাহর হুকুমের কথা বললেও যদি স্বামী খেয়াল না করে, তবে সম্পূর্ণ পাপ স্বামীর হবে।

যারা স্বামীর অধীনে এ সমস্যার মুখমুখি হচ্চেন, তারা যেন হাতের কবজি পর্যন্ত ঢেকে  রাখে। কাপড় দ্বারা ভালো করে সর্ব শরীর ঢেকে রাখে। বেগানা (যাদের সাথে দেখা করা হারাম) পুরুষের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন না। অন্য দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন। আল্লাহর হুকুম মানতে হবে পর্দা করা ফরজ একথা বলতে সাহস না হলে অন্য দিকে মুখ করে শরীর ঢেকে চুপ করে থাকবেন। তবেই আল্লাহ আপনাকে মাফ করবেন। অতি প্রয়োজনীয় কথা বলার প্রয়োজন হলে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলা জায়েজ।

আর স্বামী যদি আপনাকে পর্দায় রাখতে চায় আর আপনি তা না মানেন তবে আপনি মহা পাপী হবেন আপনার স্বামীকে আল্লাহ মাফ করে দিবেন।

মাহরামের তালিকা

মাহরাম

দাদী

নানী

মা

দুধ মা

বোন

দুধ বোন

বোনের মেয়ে

ভাইয়ের মেয়ে

খালা

ফুপু

শাশুড়ি

স্ত্রী

মেয়ে

দুধ মেয়ে

সৎ মেয়ে

ছেলের ছেলের স্ত্রী

দুধ ছেলের স্ত্রী

গোপন মাসাআলা

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Leave a Comment