Auto Image Slider

মালেক ইবনে দিনার (রহ.)

মালেক ইবনে দিনার (রহ.) এর একটি মাত্র কন্যা সন্তান ছিল সাত বসর বয়সে মেয়েটা মারা গেল, তিনি ওই কন্যার জন্য ও রাতদিন কান্না করে  খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিলেন।

এক রাতে তিনি স্বপ্ন দেখলেন, তাকে একটি বিরাট সাপ ধাওয়া করছে।  তিনি দৌড়াতে দৌড়াতে এক পাহাড়ের কিনারে গিয়ে দেখেন একটি সুন্দর সাদা পোশাক পরা বৃদ্ধ লোক সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি তাকে দেখে বললেন, বাবা আমাকে তো এই বিরাট সাপ তাড়াচ্ছে আমি কোথায় যাব? সে বলল বাবা আমার তো শরীরে শক্তি নেই। আমি তো এই সাপকে মারতে পারছি না। তবে তুমি ঐ পাহাড়ে উঠ। 

তিনি পাহাড়ের উপরে উঠলেন, উঠে দেখলেন সুন্দর একটা অট্টালিকায় বহু বাচ্চারা কচি কন্ঠে কথা বলছে। আর চারদিকে সুন্দর সুন্দর ফুলের বাগান। একটি বাচ্চা বলে উঠলো দেখে যাও তোমার আব্বা এসেছেন। এমন সময় দেখে তার ওই মেয়েটা। এসে বলে আসসালামুয়ালিকুম, বাবা আপনি কীভাবে এখানে আসলেন। তিনি বললেন, মা তোমার জন্য আমি কাঁদতে কাঁদতে প্রায় পাগল হয়ে গেছি।  হঠাৎ বিরাট একটা সাপ আমাকে তাড়াতে থাকে আমি দৌড়াতে থাকি। তারপর এই পাহাড়ের কিনারায় এসে একটা বৃদ্ধ লোককে দেখতে পাই। সে আমাকে এই পাহাড়ে উঠতে বলছে এখানে এসে তোমাকে পেলাম।

তখন তার মেয়ে বলল, বাবা ঐ সাপটা হলো আপনার বদ আমল। সে আপনাকে ছোবল মারার জন্য ধাওয়া করতে ছিল। আর পাহাড়ের কিনারে সুন্দর বৃদ্ধ লোকটা হলো আপনার নেক আমল। আপনি নেক আমল কম করেছেন। সে জন্য সে বৃদ্ধর ন্যায় দুর্বল হয়ে রয়েছে। তার শরীরে শক্তি নেই। যদি বেশী বেশী নেক আমল করতেন তাহলে সে শক্তিশালী হয়ে ওই বদ আমল সাপটাকে মেরে ফেলতে পারতো। তখন মালেক ইবনে দিনার বললেন, মা তাহলে আমি এখন কি করবো? মেয়ে বলল, আব্বা আপনি এখন আমার জন্য কান্নাকাটি না করে বেশী বেশী নেক আমল করতে থাকেন। তাহলে আপনার বদ আমলকে নেক আমল মুছে ফেলবে। বদ আমল আর থাকবে না। আপনি বেহেস্তবাসী হয়ে যাবেন তারপর তার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। তিনি এরপর থেকে নেক আমল করা শুরু করে দিলেন এবং বদ আমল বন্ধ করে দিলেন। 

সৎ আমল করতে করতে এক পর্যায়ে তিনি একজন বিখ্যাত বুজুর্গ ও আল্লাহর ওলী হয়ে গেলেন। ইতিহাসে তার নাম রয়ে গেল এভাবেই একজন মানুষের জীবনে পরিবর্তন ঘটে। কখন কার ভাগ্যে পরিবর্তন ঘটবে সেটা কেউ জানে না সেজন্য আপনি যত বড় গুনাহ্গারই হোন না কেন,

কখনো আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হবেন না। কারণ হতাশা হওয়া কুফরি। আমরা সব সময় আল্লাহর উপর ভরসা করব। নিজে সৎকর্ম করব এবং অন্যদেরকে সৎকাজে আদেশ করবো। তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মান প্রদান করবেন।

ইমাম হুসাইন (রা.) এর হত্যাকারীদের পরিণতি

নীল নদের নামে হযরত ওমর (রা.) এর চিঠি

গোপন মাসাআলা

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Leave a Comment