Auto Image Slider

নায়েতপুরী পীর ও তার অনুসারীদের আকীদা

এনায়েতপুরী পীর ও তার অনুসারীদের আকীদা-বিশ্বাস

এনায়েতপুরী বলতে বোঝানো হয়েছে সিরাজগন্জের এনায়েতপূরের পীর মাওলানা শাহ ছূফী মোহাম্মাদ ইউনুছ আলী এনায়েতপুরীকে। তার পিতার নাম মাওলানা শাহ ছূফী আবদুল করীম। তিনি ১৩০০ হিজরীর ১১ই জিলহজ্জ মোতাবেক ২১শে কার্ত্তিক ১২৯৩ সাল সিরাজগন্জ (সাবেক পাবনা) জেলার চৌহালী থানার এনায়েতপূর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।এবং ৫ই জুমাদাস সানী ১৩৭১ হিজরী মোতাবেক ১৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮ সাল ইন্তেকাল করেন। তিনি সৈয়দ ওয়ায়েতপুরীদের মতে হযরত মাওলানা শাহসুফী মোহাম্মাদ ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী ১৩০০ হিজরীর মোজাদ্দেদ।

নিম্নে এনায়েতপূরের পীর মাওলানা শাহ ছূফী মোহাম্মাদ ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী ও তার অনুসারীদের ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস ও বিদআত-কুসংস্কার মূলক কর্মকান্ড সম্বন্ধে কিছুটা বিবরণ প্রদান করা গেল।

১.এনায়েতপূরী সাহেব মনে করেন তার বংশের সকলেই মাদারজাত ওলী। এনায়েতপূরী সাহেব ইন্তেকালে কয়েকদিন পূর্বে বলেছেন, আমার বংশের তেফেল শিশু বাচ্চাকেও যদি তোমরা পাও, তাহাকে মাদারজাত ওলি মনে করিও।

২. কিছু কিছু বাতিল ফিরকার ভ্রান্ত ধারণা হল আল্লাহ ও রসূলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আল্লাহ হলেন আহাদ আর রসূল হলেন আহমদ। এই দুইয়ের মধে্য পার্থক্য কেবল একটা মীম হরফের। এনায়েতপূরীদের ধারণাও অনুরূপ বলে প্রতীয়মান হয়। তাদের রচিত নিম্নোক্ত কবিতা তার প্রমাণঃ

বানাইয়া নূর নবী দেখাইলেন আপনা ছবি 

সেই নবীজীর চরণ বিনে নাইগো পরিত্রাণ। 

আহাদে আহম্মদ বানাইয়ে, মিমকা পদ মাঝে দিয়ে

খেলতিয়াছেন পাক বারি হইয়া বে-নিশান।

খগ্নুনঃ

নবী রসূলদের সম্বন্ধে সহীহ ঈমান হল তাঁরা মানুষ, তাঁরা খোদা নন বা খোদার পুত্র নন বা খোদার রূপান্তর (অবতার) নন বরং তাঁরা খোদার প্রতিনিধি ও নায়েব-আল্লাহর বাণী অনুসারে জিন ও মানুষ জাতিকে হেদায়েতের জন্য তাঁরা দুনিয়াতে প্রেরিত হন। অতএব উপরোক্ত ধারণা ঈমান পরিপন্থী ধারণা।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর মাখলূক। তারা আল্লাহর সাথে মাখলূকের অভিন্নতার মত পোষণ করে মাখলূককে খালেককে খালেক সাব্যস্ত করেছে। আর খোদার কোন মাখলূককে খোদা সাব্যস্ত করা কুফরী। তাছাড়া রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কিত ধারণা জরূরিয়াতে দ্বীন এর অন্তর্ভুক্ত। হযরত মাওলানা ইদ্রীস কান্দহলবী বলেনঃ এ ধরনের ক্ষেত্রে কোন ভিন্নতর ব্যাখ্যা প্রদান এটাকে অস্বীকার করার নামান্তর। আর এ ধরনের বিষয়কে অস্বীকার করা কূফরী।

রসূল আর খোদার ভিতর কোন পার্থক্য নেই বললে আল্লাহর স্ত্রী ও সন্তনাদি আছে বলতে হবে। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর স্ত্রী ও সন্তানাদি তখন আল্লাহর স্ত্রীও সন্তানাদি বলে আখ্যায়িত হবে। নাউযুবিল্লাহ“

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদা হল আল্লাহর সত্তাকরিও সত্তার মধ্যে মিশ্রিত বা দ্রবিভূত হননা বা প্রবেশ করেন না এবং তাঁর সত্তার মধ্যেও কেউ মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হয় না। খৃষ্টানদের ধারণায় আল্লাহ তা‘আলা হযরত ঈসা (আঃ)-এর মধ্যে প্রবেশ করেছিলেন অর্থাৎ, অবতারিত হয়েছিলেন।

হিন্দুদের বিশ্বাস মতে ঈশ্বর মানুষ, প্রাণী, বৃক্ষ পাথর সবকিছুর মধ্যে প্রবেশ করেন অর্থাৎ, অবতারিত হন। এরূপ বিশ্বাস পোষণ কারীদেরকে হুলুলিয়া বলা হয়। এরূপ বিশ্বাস কুফরী । মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী বলেন, যেসব মুর্খ লোকেরা বলে, আল্লাহর খাস ওলীগণ আল্লাহর সত্তার মধ্যে এমনভাবে লীন হয়ে যান, যেমন বরফ পানির মধ্যে এবং বিন্দু দরিয়ার মধ্যে লীন হয়ে যায়, এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং স্পষ্ট কুফর।

উল্লেখ্যঃপূর্বেও বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ  ও রসূলের মধ্যে পার্থক্য না করার মত পোষণ করেন, বা মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রবেশ করার মত পোষণ করেন, তারা এ বিষয়ে সাধারণ বা সর্বেশ্বরবাদ-দর্শনের অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে এটা করে থাকেন।

এ সম্পর্কে পরবর্ততি সর্বেশ্বরবাদ/সর্বখোদাবাদ শিরোনামে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। 

৩. এনায়েতপুরীদের আর একটি বিভ্রান্তি হল- একশত ত্রিশ ফরয শিরোনামে লেখা হয়েছেঃ হযরত মোহাম্মদ (ছঃ)-এর ৪ কুরছি জানা ৪ ফরয। চার কুরছীর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে রাসূল পিতৃ পুরুষ ৪ জন।

১.মোহাম্মদ (ছঃ) আব্দুল্লাহর পুত্র ।

২.আব্দুল্লাহ আব্দুল মোতালেবের পুত্র । 

৩. আব্দুল মোতালেব হাসেমের পুত্র । 

৪. হাসেম আব্দুল মন্নাফের পুত্র।

আরও লেখা হয়েছে চার মাজহাব মানা ৪ ফরয।

উপরোক্ত নামগুলি জানাকে তারা ফরয সাব্যস্ত করেছেন। অথচ কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনা ব্যতীত কোন কিছুকে ফরয বলে সাব্যস্ত করা যায় না। আর এ ব্যাপারে কুরআনের কোন বর্ণনা নেই। এটা শরী‘আত সম্পর্কে তাদের চরম অজ্ঞ থাকার প্রমাণ। যেটা ফরয নয় সেটাকে ফরয সাব্যস্ত করা শরী‘আতে বিকৃতি সাধনের অপরাধ।

আর মাযহাব মান্য করা তথা তাকলীদ করাকে আইম্মায়ে কেরাম ওয়াজিব বলেছেন। যে ইমামেরই হোক যেকোন একজনেরই তাকলীদ করা ওয়াজীব। এটাকেও ফরয সাব্যস্ত করা তদুপরি চার ইমামের তাকলীদকে চার ফরয সাব্যস্ত করা শী‘আত সম্পর্কে তাদের অজ্ঞ থাকার প্রমাণ।

৪.তারা পীর সম্বন্ধে অতিরজ্ঞনের শিকার ।যেমনঃ

(১)তাদের মতে পীর ধরা ফরয। অথচ কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনা ব্যতীত কোন কিছুকে ফরয বলে সাব্যস্ত করা যায় না। এনায়েতপুরী বলেনঃ পীর ধরা সবার জন্য ফরয। 

পীরের অছিলা ধরার বয়ান শিরোনারে নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা পীর ধরার স্বপক্ষে তারা দলীল পেশ করেছেনঃ

অর্থাৎ, মে মু‘মিনরা, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর ওছীলা অর্থাৎ, নৈকট্য লাভের উপায় অন্বেষণ কর।

কৃরআরেনর মিম্নোক্ত আয়াত দ্বারাও পীর ধরা ফরয এ মর্মে দলীল পেশ করেছেনঃ

অর্থাৎ, তিনি যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার কোন পথপ্রদর্শনকারী পাবে না। 

তারা বলেন, পবিত্র কালামে মাজীদের এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যাহার কোন কামেল মোরশেদ নাই, সে নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট ।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর হাতে কোন কোন সাহাবী কর্তৃক জিহাদ করা, চুরি, যেনা না করা প্রভৃতি বিষয়ের উপর বাই‘আতের কথা হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। এ থেকে উলামায়ে কেরাম বাইআতে সুলক তথা পীর-মুরীদির বাইআত প্রমাণিত করেছেন। অতএব পীর গ্রহণ করাকে সুন্নাত বলা যেতে পারে। কিন্তু কোনক্রমেই ফরয নয়। পীর ধরাকে ফরয বলা শরী‘আতে বাড়াবাড়ি বৈ কিছু নয়।

পূর্বোক্ত আয়াতে যে শব্দটি এসেছে, সাধারণভাবে মুফাসসিরিনে কেরাম তার দ্বারা ইবাদত-বন্দেগী উদ্দেশ্য নিয়েছে। কোন কোন মুফাসসির তার মধ্যে শায়খ গ্রহণের বিষয়টিকেও অন্তভুক্ত করা যায় মর্মে মত দিয়েছেন। এর অর্থ হল শব্দটি পীর ধরার ব্যাপারে দ্ব্যর্থহীন নয় । আর কুরআনের দ্ব্যর্থহীন অর্থ বিশিষ্ট কোন ভাষ্য ছাড়া কোন ফরয প্রমাণিত করা যায় না।আর দ্বিতীয় আয়াতের সাথে মুর্শিদ ধরার বিষয়টি কোন ভাবেই সম্পর্কিত নয়। 

(২) এনায়েতপুরীগণ পীরের মধ্যে তাওযাজ্জুহ দিয়ে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন এনে দেয়ার ক্ষমতা প্রবক্তা। তাদের মতে এনায়েতপূরী পীর সাহেবের মধ্যে তাওয়াজ্জুহে ইত্তেহাদী-র ক্ষমতা ছিল। এ সম্বন্ধে তারা লিখেছেন- তাওয়াজ্জুহে এওেহাদীর শক্তিই সর্বোপেক্ষা অধিক। যে সে পীরে তাওয়াজ্জুহ দিতে পারে না।

যাঁহাকে আল্লাহে এত্তেহাদী তাওয়াজ্জুহ দানের ক্ষমতা দিয়াছেন, তিনি যদি ঐ তাওয়াজ্জুহ কাহাকেও দান করেন, তবে প্রবল অগ্নির ন্যায় মুহুর্তের মধ্যে তাহার দেলের যাবতীয় ময়লা জ্বালাইয়া দিয়া তাহার দেল পাক ও ছাফ করিয়া দেয়। তখন লতীফা আল্লাহ আল্লাহ নামে হেলিত (নড়া চড়া করিতে) থাকে।

নায়েতপুরী পীর ও তার অনুসারীদের আকীদা

যৌন তত্ত্ব

গোপন মাসাআলা

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Leave a Comment