Auto Image Slider

নামাজের ওয়াজিব সমূহ নামাজের মধ্যে ওয়াজিব ১৪টি

নামাজের ওয়াজিব সমূহ:

নামাজে ভুলবশত কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে নামাজ শেষে সেজদায়ে সাহু করলে নামাজ হয়ে যায়। তবে ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব তরক করলে নামায পুনরায় পড়তে হবে।

সাহু সেজদা করার নিয়ম: আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর ডান দিকে সালাম ফিরাবে। তারপর দুটি সিজদা দেবে অতঃপর আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরাবে।

নামাজের ওয়াজিব ১৪টি:

১। আলহামদু শরীফ সম্পূর্ণ পড়া।

২। সূরা ফাতিহার পর যেকোনো একটি সূরা মিলানো। অথবা তিন আয়াত পরা, অথবা ১আয়াত তিন আয়াত সমপরিমাণ পড়া।

৩। রুকু সিজদায় দেরি করা।

৪। রুকু হতে সোজা হয়ে খাড়া হয়ে দেরি করা।

৫। দুই সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসে দেরি করা।

৬। চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হলে, প্রথম দুই রাকাতের পর বৈঠক করা।

৭। দোন বৈঠকে আত্তাহিয়াতু পড়া।

৮। ইমামের জন্য কেরাত আস্তে এবং জোরে পড়া। (অর্থাৎ ফজর মাগরিব এশার নামাজে কেরাত জোরে পড়তে হবে। আর যোহর ও আসরের নামাজে কেরাত আস্তে পড়া ওয়াজিব।

৯। বিতরের নামাজে দোয়ায়ে কুনুত পড়া।

১০। দুই ঈদের নামাজে ছয় ছয় তাকবীর বলা। অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের ও ঈদুল আজহায় দু’রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। প্রথম রাকাতে ছানা পড়ার পর তিনবার তাকবীর বলা এবং দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে তিনবার তাকবীর বলা ওয়াজিব।

১১। প্রত্যেক ফরজ নামাযের প্রথম দুই রাকাতকে কেরাতের জন্য নির্ধারিত করা।

১২। প্রত্যেক রাকাতের ফরজ গুলির তারতিব (ধারাবাহিক ঠিক রাখা

১৩। প্রত্যেক রাকাতের ফরজ গুলির তারতিব (ধারাবাহিক ঠিক রাখা

১৪। আসসালামুয়ালাইকুম বলে নামাজ শেষ করা।

নামাযের মধ্যে রয়েছে ফরজ, ওয়াজিব এবং সুন্নতসমূহ ইচ্ছাকৃত হোক অথবা ভুলবশত হোক ফরজ ছুটে গেলে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে নামাজ আদায় করতে হবে। আর ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিলে নামাজ আদায় হয়ে যায়। আর সুন্নাত ছুটে গেলে প্রয়োজন নেই।নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

নামাজ সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েল জানতে নামাজের মাসআলা ক্যাটাগরিতে ক্লিক করে আপনি নিয়মিত মাসলা-মাসায়েল পড়তে পারবেন।

ইসলামী জীবন

অন্য ভাষায় ট্রানস্লেট করুন

নামাজের ওয়াজিব সমূহ

ইমামের পিছনে মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠের বিধান

 ইমামের পিছনে মুক্তাদী সূরা ফাতিহা পড়বে কিনা এব্যাপারে কোন কোন আলিমের দ্বিমত থাকলেও অধিকাংশ সাহাবী ও তাবিঈনের মত হল না পড়ার পক্ষে । ইমাম আবু হানীফা ইমাম মালেক ও ইমাম আহমদ তিনজনই একমত হয়েছেন যে, মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতেহা পড়া জরুরী নয় । শুধুমাত্র ইমাম শাফেয়ী রহ., এর মতে জোহর ও আসরের নামাযে মুক্তাদীর জন্য কেরাত পড়া ফরজ। বর্তমানে মাযহাব বিরোধী এ ব্যাপারে খুব বাড়াবাড়ির শিকার। সর্ব সাধারণকে তারা এই বলে ধোঁকা দিচ্ছে যে, ফাতেহা না পড়লে কোন মুক্তাদীর নামাযই হবে না। বক্ষমান নিবন্ধে তাদের সেই বাড়াবাড়ির দলীলভিত্তিক জবাব দেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

واذا قرئ القرآن فاستمعوا له وأنصتوا لعلكم ترحمون

অর্থাৎ আর যখন কুরআন তেলাওয়াত করা হয় তখন তোমরা কান পেতে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তা শ্রবণ কর এবং নীরব থাক যেন তোমরা রহমত প্রাপ্ত হতে পার। ১৬২

এ আয়াতের ব্যাপারে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম, ফুকাহায়ে এজাম, আইম্মায়ে মুযতাহিদীন, মুহাদ্দীসিন ও আইম্মায়ে মুফাসসিরীন তথা তাফসীর শাস্ত্রের ইমামগণের সম্মিলিত মত হচ্ছে যে, উক্ত আয়াতটি নামায সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে । এবং এর মাঝে মুক্তাদীগণের কর্তব্য সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ নামাযে যখন কিরাত পড়া হবে তখন মুক্তাদীর কর্তব্য হচ্ছে অত্যন্ত মনোযোগ ও একাগ্রতার সাথে ইমামের কিরাত শ্রবণ করা ।

পাঠক! এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে, আল্লাহ তা’আলা এ আয়াতে واذا قرء القران

যখন কুরআন পাঠ করা হয়।) এ অংশের পর দুটি শব্দ উল্লেখ করেছেন । একটি হচ্ছে فاستمعوا  মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর) আর অপরটি হচ্ছে وانصتوا (এবং নীরব থাক) সুতরাং শব্দ দুটি সুস্পষ্টভাবে একথার প্রমাণ করে যে, যদি ইমাম উচ্চ আওয়াজে কিরাত পড়ে তাহলে মুক্তাদীর কর্তব্য হচ্ছে, সে মনোযোগের সাথে উক্ত কিরাত শ্রবণ করবে । আর (দ্বিতীয় শব্দটি অর্থাৎ وانصتوا (নীরব থাকবে) বলার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যদি ইমাম নিম্ন আওয়াজেও কিরাত পড়ে তাহলেও মুক্তাগণ নীরবই থাকবে, কিছুই পড়বে না ।

অন্যথায় আল্লাহর فاستمعوا ( মনোযোগের সাথে শ্রবণ করবে) বলার পর পুনরায় وانصتوا (এবং নীরব থাকবে) শব্দ উল্লেখ করার কোনই অর্থ হয় না । তাই মুক্তাদী জাহরী বা (সরব) নামাযে যেরূপ নীরব থাকবে সিররী (যোহর, আছর) নামাজেও অনুরূপই নীরব থাকবে ।

উক্ত আয়াত সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের ব্যাখ্যা

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের রহ. তাফসীর: সাহাবাগণের মাঝে যারা কুরআনে কারিমের শিক্ষক ছিলেন তাদের মাঝে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের রা. নাম ছিল সর্বাগ্রে। রাসূলে সা. ইরশাদ করেন,

استقرء وا القرآن من اربعة من عبد الله بن مسعود وسالم مولى أبي حذيفة

وأبي بن كعب ومعاذ بن جبل

অর্থাৎ তোমারা এই চার সাহাবা থেকে কুরআনুল কারিমের শিক্ষা গ্রহণ কর। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, সালেম মাওলা আবি হুযাইফা, উবাই ইবনে কা’আব এবং মুআয আবনে জাবাল রা.। এবার আলোচ্য আয়াত সম্পর্কে এ মহান সাহাবী তরুণীর লক্ষ্য করু তাফসীরে ইবনে জারীরে বর্ণিত রয়েছে,

صل ابن مسعو د (رض) فسمع أناسا يقره ون مع الإمام فلما انصرف قال أما أن الكم ان تفهموا ما أن لكم ان تعقلوا وإذا قرى القرآآن فاستمتعوا له وانصتوا كما أمركم الله تعالى.

অর্থাৎ একদিন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. নামাজ পড়ছিলেন, তখন কিছু লোককে নামাযে ইমামের সাথে কিরাত পাঠ করতে শুনলেন। তখন তিনি নামাযান্তে বললেন- তোমাদের এখানো কি বুঝ জ্ঞান হয়নি? যখন কুরআন পড়া হয় তখন তোমার মনোযোগের সাথে তা শ্রবণ করবে এবং নীরব থাকবে- ঠিক যেমন

তোমাদের আদেশ করেছেন । এই রেওয়ায়েতে তিনি সুস্পষ্টভাবে মুক্তাদীদের ইমামের পিছনে কোন কিছু পড়তে নিষেধ করে দিলেন। বুঝা গেল, হযরত ইবনে মাসউদেরা মতে উক্ত আয়াতটি নামাযে মুক্তাদীদের কিরাত পাঠ প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে।

মুফাসসীরকুল শিরোমণি হযরত ইবনে আব্বাসের রা. তাফসীর: ইবনে আব্বাস (রা.) সম্পর্কে রাসুলে কারিম সা. ইরশাদ করেছেন,

اللهم فقهه في الدين وعلمه التاويل

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি তাকে (ইবনে আব্বাসকে) দ্বীনের সঠিক বুঝ দান কর এবং কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা অনুধাবনের যোগ্যতা দান কর

এই মহান সাহাবী আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন,

عن ابن عباس في قوله تعالى واذا قرئ القرآن فاستمعواله وانصتوالعلكم تر

حمون يعني في الصلوة المفروضة

অর্থাৎ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি واذا قرء القران   এ আয়াত সম্পর্কে বলেন যে, উক্ত আয়াতটি ফরজ নামাযের ক্ষেত্রেই অবতীর্ণ । 

তাঁরা এ বর্ণনা থেকেও সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, আয়াতের সম্পর্ক ফরজ নামাজে কিরাত পাঠের সাথে । সুতরাং allab (কান পেতে শ্রবণ কর) এবং jaily (নীরব থাকে) বলে আয়াতে মুক্তাদীর কর্তব্য বলে দেয়া হয়েছে যে, তারা ইমামের কিরাত শ্রবণ করতে থাকাবে এবং নীরব থাকবে ।

উক্ত আয়াত সম্পর্কে তাবেঈগণের ব্যাখ্যা

হাফজ ইবনে কাছির বলেন, কুরআনুল কারীমের তাফসীরে ক্ষেত্রে কুরআন, হাদীস ও সাহাবার রা. পরই তাবেঈগণের তাফসীর প্রামাণ্য ও গ্রহণযোগ্য ।১৩৭

নবাব সিদ্দীক হাসান খাঁন সাহেব লিখেছেন,

ওয়ালা এমনিভাবে তাবেঈর তাফসীর ও শরীয়তের দলীল। (৬। পৃ: ৯৬)

হযরত মুজাহিদ ইবনে জাবের রহ.এর তাফসীর: তাবেঈগণের মধ্যে সবচেয়ে বড় মুফাস্সিীর ছিলেন মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহ) । তিনি তাঁর জামানানায় তাফসীরশাস্ত্রের সবচেয়ে বড় ইমাম ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে সুফিয়ান ছাড়ীর রহ একটি বাণী প্রসিদ্ধ রয়েছে। তিনি বলতেন-

إذا جائكم التفسير عن مجاهد فحسبكم به

অর্থাৎ তোমাদের নিকট যখন মুযাহিদের (রহ) তাফসীর এসে যাবে তখন তোমাদের অন্য কোন তাফসীরের প্রয়োজন হবে না । ১৩৮

এই প্রখ্যাত মুফাসসীর আলোচ্য আয়াতের তাফসীরে বলেন,

عن مجاهد في قوله تعالى : واذا قرئ القرآن فاستعوا له وأنصتوا في الصلوة

অর্থাৎ মুজাহিদ রহ. বলেন যে,,,, আয়াতটি নামাজ সম্পর্কে অবতীর্ণ ।

অন্যান্য বিশিষ্ট তাবেঈগণের তাফসীর

হযরত যাহহাক, ইবরাহীম, নাখাঈ, কাতাদাহ, শা’বী, সুদ্দী এবং আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম রাহ. প্রমূখ ইমামগণ বলেন যে, উক্ত আয়াতের মতলব হচ্ছে নামায অর্থাৎ এ আয়াত নামায সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ১৯৪০

উল্লিখিত সাহাবা ও তাবেঈগণের বর্ণনা ছাড়াও আরো অনেক প্রখ্যাত মুফাসীরগণ যথা- তাফসীরে কাশশাফের গ্রন্থকার তার কিতাবের ১ম খ-ের ৫২৩ এ পৃষ্ঠায়, তাফসীরে বাইজাবীর গ্রন্থকার আল্লামা কাজী বাইজাবী ৩০৮ পৃষ্ঠায়, রুহুল মা’আনীর গ্রন্থকার ৯ম খ-ের ১৫১ পৃষ্ঠায় এবং আবুস সাউদ ৪র্থ খ-ের ৫০৩ পৃষ্ঠায় একথা উল্লেখ করেছেন যে, উক্ত আয়াত নামায সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ আয়তর মাঝে !…… (কান পেতে শ্রবণ কর) এবং Ipail, (নীরব থাক) এ হুকুম মুক্তাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে, ইমামের পিছনে সে কিছুই পাঠ করবে না।

হাদীসের আলোকে ইমামের পিছনে মুক্তাদীর ফাতিহা না পড়া

১নং হাদীস: মুসলিম শরিফের ১ম খন্ডের ১৭৪ নং পৃষ্ঠায় হযরত আবু মূসা আশ’আরী রা. থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন,

ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خطبنا فبين لنا سنتنا وعلمنا صلوتنا فقال إذا صليتم فأقيموا صفوفكم ثم ليؤمكم احد كم فاذا كبر فكبرا وإذا قرأ فا نصتوا –

অর্থাৎ একদিন রাসূল সা. আমাদেরকে ওয়াজ করেন। তখন তিনি আমাদেরকে সুন্নত শিক্ষা দিলেন। এবং নামাজের পদ্ধতি বর্ণনা করে বললেন, যখন তোমরা নামাযে দাঁড়াবে তখন কাতার ঠিক করে নিবে। এর পর তোমাদেরই একজন ইমাম হবে । আর সে (ইমাম) যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তখন তাকবীর বলবে । তবে সে যখন কেরাত পড়বে তোমরা তখন নীরব থাকবে ।

ইমাম মুসলিম রহ. তাঁর কিতাব “সহীহ মুসলিমে” হাদীসটির মানদ- উল্লেখ করে বলেছেন । এটি আমার নিকটে বিশুদ্ধতম হাদীস।

এছাড়াও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এবং ইমাম তবারী একে সহীহ (বিশুদ্ধ হাদীস) বলেছেন। ইমাম তবারী তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ তাফসীরে তবারীর ৯ম খণ্ডের ১১২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন-

وقد صح الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من قوله إذا قرأ فأنصتوا.

অর্থাৎ রাসূল সা. থেকে বর্ণিত হাদীস  إذا قرأ فأنصتوا.  (যখন ইমাম কিরাত পড়বে তখন তোমরা চুপ থাকবে) এটা সহীহ বা বিশুদ্ধ ।

লা-মাযহাবীদের পক্ষ থেকে উক্ত হাদীসের

উপর প্রশ্ন ও তার জবাব

পাঠক! বর্ণিত হাদীসটি লা-মাযহাবী ভাইদের (তথাকথিত আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের) বিপক্ষে যাওয়ায় এ দলীলটি খন্ডন করার উদ্দেশ্য তারা এর উপর প্রশ্ন উত্থাপন করে থাকেন যে, উক্ত হাদীসের সনদে বা বর্ণনা সূত্রে রয়েছেন ক্বাতাদার ছাত্র “সুলাইমান তাইমী” । আর একমাত্র তিনিই হাদীসের এ অংশটি Iasbi 313) (ইমাম যখন কিরাত পড়ে তখন তোমরা চুপ থাক) বর্ণনা করেছেন। অন্য কারো হাদীসে এই অতিরিক্ত অংশটি পাওয়া যায় না। অতএব, এ বর্ধিত অংশটি গ্রহণযোগ্য নয় । সুতরাং এর দ্বারা দলীল পেশ করাও ঠিক নয় ।

উত্তর: প্রথমেই বলা দরকার যে, আপনার প্রশ্ন

তাইমী” ছাড়া হাদীসের এই অংশ  إذا قرأ فأنصتوا.

‘কাতাদা’র ছাত্র “সুলাইমান (ইমাম যখন কিরাত পড়ে তোমরা তখন নীরব থাক।) অন্য কোন হাদীসে পাওয়া যায় না।

এ কথাই সম্পূর্ণ গলত ও ভ্রান্ত। কারণ, ইমাম আবু আওয়ানহ’ তার মূল নাম ইয়াকুব ইবনে ইসহাক । (মৃত্যু ৩১৬ হি । আল্লামা যাহাবী তাকে الثقة الكبير বা বিশ্বস্তও নির্ভরযোগ্য রাবী এবং হাফেজ অর্থাৎ হাদীসের হাফেজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। 5 : খ ৩. পৃ : ২) তাঁর গ্রন্থে সহীহ আবী আওয়ানায়  সহ বর্ণনা করেছেন। উক্ত

পৃ.।) উক্ত হাদীসটি এই বর্ধিত অংশ।

হাদীসের সনদে রয়েছে কাতাদারই অন্য এক ছাত্র ‘আবু উবায়দা’ । পাঠকের অবগতির জন্য সহিহ আবি আওয়ানায় বর্ণিত হাদীসটি নিম্ন হুবহু সনদসহ পেশ করা হল-

قال حدثنا سهل بن البحر الجندى سا بوى قال حدثنا عبدالله بن رشيد ثنا أبو عبيدة عن قتادة عن يونس بن جبير عن حطان بن عبدالله الرقاشي عن ابى موسى الأشعرى قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قرأ الامام فأنصتوا.. الأرخ

এ হাদীসটি সহীহ আবী আওয়ানায় বর্ণিত। আর সহীহ আবু আওয়ানায় মানদ- ও নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনা করে ‘কানঝুল উম্মালে’ লেখা হয়েছে যে, “সহীহ আবু আওয়ান। সমস্ত হাদীস নির্ভরযোগ্য ও সহীহ। (১ম খ. ৩নং পৃ.)

এ ছাড়াও হুবহু এই বর্ধিত অংশ তথ্য إذا قرأ فأنصتوا. (যখন ইমাম কিরাত পড়ে তোমরা তখন চুপ থাক) সহ হাদীসটি ওমর ইবনুল আমের এবং সাঈদ ইবনে আবী আরুবাহ বর্ণনা করেছেন। ১৪১ আর ওমর ইবনে আমের এবং সাঈদ ইবনে আবি আরুবা উভয়ই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। এবং তাদের সনদ মুসলিমের রহ. শর্ত অনুযায়ী) তাছাড়া এ হাদীসটি হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকেও সহীহ ও বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত আছে। মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ প্রমূখ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এসকল সহীহ গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণিত থাকায় প্রমাণিত হল যে, আমাদের পেশকৃত হাদীসের বর্ধিত অংশ । إذا قرأ فأنصتوا. সম্পূর্ণ সহীহ ।

আর আপনাদের কথা অনুযায়ী যদি মেনেও নেয়া হয় যে, “সুলাইমান তাইমী” শুধু একাই এ হাদীসে । إذا قرأ فأنصتوا., অংশটি উল্লেখ করেছেন অন্য কেউই করেননি । তবুও কোন সমস্যা নেই। কারণ, “সুলাইমান তাইমী” তো সর্বসম্মতিক্রম একজন নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী । আর মুহাদ্দীসগণের স্বীকৃত মূলনীতি হচ্ছে  যে, হাদীসের মাঝে কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণকারী অতিরিক্ত বর্ণনা বা বর্ধিত অংশ গ্রহণযোগ্য । যেমন যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীস আল্লামা খতীব বাগদাদী রহ. বলেন-

قال الجمهور من الفقهاء واصحاب الحديث زيادة الثقة مقبولة إذا انفرد بها.

অর্থাৎ ফুকাহা ও মুহাদ্দীসিনদের নিকট (নিয়ম হচ্ছে যে,) কোন নির্ভরযোগ্য রাবী যদি একাকি হাদীসের কোন অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেন (এবং অন্য কেউই ঐ অংশ বর্ণনা না করেন) তবুও তার এই বর্ণিত অংশ গ্রহণযোগ্য সুতরাং সুলাইমান তাইমীল (রহ) হাদীসের মাঝে অতিরিক্ত বর্ণনা যে, “ইমাম যখন কেরাত পড়ে তোমরা তখন নিরব থাক” নিঃসন্দেহে বিশুদ্ধ । হাদীস দিয়ে দলীল দেওয়াও যথোপযুক্ত ।

২নং হাদীস: হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, এবং এ

عن جابر رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من كان

له إمام فقراءة الأمام له قراءة…

অর্থাৎ হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সা. বলেন, যে ব্যাক্তির ইমাম রয়েছে (অর্থাৎ যে ইমামের পিছনে নামায পড়বে) তার ইমামের কিরাতই তার কিরাতের জন্য যথেষ্ট হবে। 

এ হাদীসটি সম্পূর্ণ সহীহ এবং আমাদের মাসআলায় সর্বাধিক সুস্পষ্ট হাদীসটির মাঝে একটি মূলনীতি বলে দেয়া হয়েছে যে, নামায (جهر) বা সরব হোক অথবা (سر) নীরব হোক সর্বাবস্থায় ইমামের কিরাতই মুক্তাদীর কিরাতের জন্য যথেষ্ট সুতরাং মুক্তাদীর কিরাত পড়ার কোন প্রয়োজন নেই ।

হাদীসটি বিভিন্ন সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে এবং প্রত্যেক বর্ণনাকারীই অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ।

Leave a Comment